আমি এই শিকারপুর গ্রামের নেয়ামত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আমাদের এই এলাকায় দানবীর, সমাজসেবী ও জ্ঞানী লোক হিসেবে সকলের কাছে যিনি শ্রদ্ধাভাজন তিনি অ্যাডভোকেট নেয়ামতউল্লাহ। শিক্ষানুরাগী এই ব্যক্তিটিই শিকারপুর গ্রামের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা যিনি আঁধারকে করেছেন আলো, যার সার্বিক সহযোগীতায় ১৯৮৬ সনে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শিকারপুর মাল্টি প্রজেক্টে কমিউনিটি ক্লিনিক, বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও মক্তব প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদ মক্তবের আয়ের ব্যবস্থার জন্য দিঘি সংস্কার, কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় দেয়াল নির্মাণ, সবুজায়নের জন্য ঔষধি ও কাঠ গাছ রোপণ ইত্যাদি উদ্যোগ শিকারপুরের এই পতিত ভূমিকে করেছে আলোকিত। অনেক দর্শনার্থীও দেখতে আসেন এই এলাকার সৌন্দর্য। শিকারপুরে যাতায়াতের সুব্যবস্থা ও পাশ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে এই মহান ব্যক্তির প্রচেষ্টাতেই নির্মিত হয়। এই বিদ্যালয় স্থাপনের পূর্বে গ্রামের চার কিলোমিটার এলাকায় কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। এখনও কণ্ঠনগর (মাশোরা) বুরবুরিয়াসহ তিন গ্রামে একটি মাত্র স্কুল। এখানে শিক্ষারত প্রায় ১৬৪ জন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষাদান করেন পাঁচজন শিক্ষক ও ২ জন প্যারা টিচার। শিকারপুরসহ পার্শ্ববর্তী দুই গ্রামের প্রায় ত্রিশহাজার গ্রামবাসীর শিক্ষার আলোর মুখ দেখাতে এই শিকারপুর নেয়ামত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় অ্যাডভোকেট নেয়ামতউল্লাহর অবদান এলাকাবাসী যুগ যুগ ধরে স্মরণ রাখবে।
—– মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্রধান শিক্ষক
